শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৩:৪৩
শৈশব থেকেই লজ্জাশীলতা ও শালীনতার শিক্ষা জরুরি

লজ্জাশীলতা, শালীনতা ও পবিত্রতার মতো নৈতিক গুণ একদিনে গড়ে ওঠে না; বরং এগুলো ধীরে ধীরে বিকশিত হয় এবং শৈশবের অভ্যাস ও আচরণের মধ্যেই এর ভিত্তি তৈরি হয়। একটি শিশুর ভবিষ্যৎ চরিত্র গঠনে পরিবার, পারিবারিক পরিবেশ ও ছোটবেলার অভ্যাসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: সন্তান এখনো বালেগ বা শরিয়তের বিধান পালনের বয়সে পৌঁছায়নি—এই যুক্তিতে তার কিছু আচরণকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণগত সমস্যার কারণ হতে পারে। কারণ, শরিয়তের বিধান কোনো নির্দিষ্ট বয়সে প্রযোজ্য হওয়া এক বিষয়, আর তার আগেই শিশুর মধ্যে উপযুক্ত অভ্যাস ও নৈতিক বোধ গড়ে তোলা আরেক বিষয়।

প্রয়াত আয়াতুল্লাহ হায়েরি শিরাজি (রহ.) শালীনতা ও পবিত্রতার শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরতে গিয়ে ‘এখনো শরিয়তের বিধান পালনের বয়সে পৌঁছায়নি’—এই যুক্তির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, শিশুকে অশালীন পোশাক পরা বা অনাবৃত অবস্থায় থাকার অভ্যাস করালে তার অন্তর্নিহিত রক্ষাকবচ—অর্থাৎ হায়া বা লজ্জাশীলতা—দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং পরবর্তী জীবনে পবিত্রতা ও সংযমের গুণ বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

আয়াতুল্লাহ হায়েরি শিরাজি (রহ.) বলেন, “যে শিশুর ওপর এখনো শরিয়তের বিধান প্রযোজ্য হয়নি, তাকে কি আপনি সিগারেট খেতে দেবেন? আপনি বলবেন, ‘না; এতে সে অভ্যস্ত হয়ে যাবে এবং বড় হয়ে ধূমপায়ী হয়ে উঠবে।’ তাহলে বোঝা গেল, সেই বয়সেও কিছু বিষয় থেকে তাকে বিরত রাখার প্রয়োজন রয়েছে। তাকে কি হেরোইন গ্রহণ করতে দেবেন?

কিছু মানুষ তাদের সন্তানদের শুধু একটি হাতাকাটা গেঞ্জি পরিয়ে বাইরে নিয়ে যান। এ বিষয়ে তাদের সতর্ক করলে বলেন, ‘এখনো তো তার ওপর শরিয়তের বিধান প্রযোজ্য হয়নি!’

ভাই! যদি সে ছোটবেলা থেকেই অনাবৃত বা অশালীন অবস্থায় থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তাহলে শরিয়তের বিধান পালনের বয়সে পৌঁছানোর পর কি হঠাৎ করে তার মধ্যে লজ্জাশীলতা এসে যাবে?

না। মানুষের যেমন কামপ্রবৃত্তি রয়েছে, তেমনি সেই প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার শক্তিও তার মধ্যে রয়েছে। আর এই নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উপায় হলো হায়া বা লজ্জাশীলতা। মানুষের প্রতিটি প্রবৃত্তি ও গুণের একটি পরিপূরক এবং একটি রক্ষাকবচ রয়েছে। কিন্তু আমরা অনেক সময় বিষয়টি বুঝতে না পেরে এর গুরুত্ব দিই না।

ঈমানের দুর্বলতাও অনেক সময় এ ধরনের ছোটখাটো অবহেলা থেকেই শুরু হয়। যেসব বিষয়কে আমরা গুরুত্ব দিই না, সেখান থেকেই অবক্ষয়ের সূচনা হতে পারে। আবার ঈমান ও নৈতিকতার বিকাশও শুরু হয় এসব বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে।”

শৈশবের অভ্যাসেই গড়ে ওঠে ভবিষ্যৎ চরিত্র
আয়াতুল্লাহ হায়েরি শিরাজির (রহ.) বক্তব্যের মূল শিক্ষা হলো—সন্তানের নৈতিক ও চারিত্রিক প্রশিক্ষণকে কেবল বয়ঃসন্ধি বা শরিয়তের বিধান পালনের বয়স পর্যন্ত পিছিয়ে রাখা উচিত নয়। বরং ছোটবেলা থেকেই তাকে শালীনতা, হায়া, আত্মসংযম ও পবিত্রতার পরিবেশে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে।

শিশুর মধ্যে হায়া সৃষ্টি করা মানে তাকে অযথা কঠোরতা বা সংকোচের মধ্যে রাখা নয়; বরং তার স্বাভাবিক ও সুস্থ নৈতিক বোধকে ধীরে ধীরে বিকশিত করা। পরিবারে অভিভাবকদের আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, পারস্পরিক সম্মান এবং সন্তানকে দেওয়া দৈনন্দিন শিক্ষা—সবকিছুই এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

তাই সন্তানের ছোট ছোট অভ্যাসকে তুচ্ছ মনে না করে ভালোবাসা, প্রজ্ঞা ও ধৈর্যের সঙ্গে তাকে সঠিক পথে অভ্যস্ত করা জরুরি। কারণ, শৈশবে যে অভ্যাসের বীজ রোপিত হয়, পরবর্তী জীবনে তা-ই অনেক সময় চরিত্রের রূপ ধারণ করে।

সূত্র: রাহে রোশদ (আত্মগঠনের পথ), খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৮১।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha